লিবিয়া-র ত্রিপলী হতে ১০০ কি.মি. দূরের মিজডা ও সীমান্তবর্তী শহর বেনগাজী দুটোই মারাত্মক ভয়াল নগরী, আমি তা প্রথম জেনেছিলাম এ লিবিয়ান রিফুজি পিতার নিকট থেকে, যিনি বেনগাজী থেকে জানের ভয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু আমার তখনও বোধোদয় হয়নি কেন উনি এতো বর্বরতম লোমহর্ষক বর্ননা দিচ্ছিলেন, বার বার মনে হচ্ছিলো, ভদ্রলোক বোধহয় বাড়িয়ে বলছেন…যাতে আমি কিছু বেশী সাহায্য করি, গাইডের কাছে আগেই শুনেছিলাম এখানে রাস্তা ঘাটে শরনার্থীরা পথ আটকে সাহায্য চাইবে, ইস্তাম্বুলের পরিবেশটাই ওরা নষ্ট করে দিয়েছে, আর তুর্কি প্রেসিডেন্ট মি.এরদোগান সরাসরি রাশিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে লিবিয়া প্রশ্নে একাট্টা হয়ে এ সব রিফুজিদের অবাধে তুরস্কে প্রবেশের পথ খুলে দিয়েছে, নইলে এ হতভাগ্য মানুষগুলো ঐসব মদদপুষ্ট জংগীবাহিনী কতৃক নিহত হতো কিংবা মেডিটেরিয়ান সী-তে ওদের নৌকোর সলিল সমাধী ঘটতো। মুয়াম্মার গাদ্দাফী একনায়ক ছিলেন বটে, টানা ৪১ বছর লিবিয়া শাসন করেছেন, কিন্তু ২০১১ তে তাকে পশ্চিমা শক্তি হত্যা করে মূলত লিবিয়ার জনগণের কোন উপকার করেনি, তারা বানরের পিঠা ভাগের মতো লিবিয়াকে ভাগ করার পাঁয়তারা করছিলো, যা রাশিয়ার সহায়তায় তুরস্ক ও ইরান প্রতিরোধ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অভিবাসী ও শরণার্থীদের মাঝে মানসিক সমস্যা নিয়ে ইতিপূর্বে আমি এক গবেষণা করেছিলাম, সেই থেকে মধ্যপ্রাচ্য বা আশেপাশের দেশগুলোতে যখনই কোন Refugee দেখেছি, সেচ্ছায় তাদের বিষয়ে জানতে এগিয়ে এসছি, কিছু আরবী জানার সুবাধে তাদের সাথে অনায়াসেই আলাপ জুড়ে দিতে পারি, তাদের দুঃখ কষ্টে সহমর্মীতা প্রকাশ করতে পারি। প্রথম ছবির এ পিতা তার দু সন্তান নিয়ে সেই সুদুর বেনগাজী থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দেশান্তর হয়েছিলো, সুন্দর এক জীবনের লক্ষ্যে… আমি সেই সময় তাদের মুখে শুনেছিলাম মিজডা ও বেনগাজীর দূর্ধর্ষ বাহিনীগুলোর কথা, কিন্তু তেমন বিশ্বাস করতে পারিনি, ২৬ জন নিরাপরাধ বাংলাদেশীর নির্মমমৃত্যুতে আজ আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি, কতোটা বর্বর হত্যাকাণ্ডে তারা সিদ্ধহস্ত হয়ে গেছে, এবং লিবিয়ার উক্ত অংশে চরম ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, দুঃখজনক হলেও সত্যি এখনো অনেকেই ওদের সাথে ইসলাম জুড়ে দিয়ে এসব বাহিনীগুলোর সাথে ধর্মের সাজুয্য সৃষ্টি করে থাকে, আদতে এদের সাথে ইসলামের দূরতম সম্পর্কও নেই বরং এরা ঠিক বিপরীত মুসলিমবিরোধী আন্তর্জাতিক শক্তি কতৃক লালিত পালিত ও দিক নির্দেশিত হচ্ছে, যারা একইভাবে সিরিয়া-লেবানন-ফিলিস্তিন-ইয়েমেনকে আশান্ত করে রেখেছে। এ জন্যই আজো লিবিয়ায় শান্তি স্থাপন সম্ভব হয়নি এবং এ হেন জঘন্য হত্যাকান্ড প্রায়শঃই সংঘটিত হয়েই চলেছে; আর এর করুন শিকার হচ্ছে আমাদের মতো দেশগুলো থেকে অবৈধভাবে পাড়ি জমানো যুবকের দল, যারা রঙিন সপ্নে বিভোর হয়ে দালালদের মাধ্যমেলিবিয়া হয়ে ইতালী-স্পেন-গ্রীস-বেলজিয়াম ইত্যকার ইউরোপীয় দেশসমূহে ভাগ্যান্বেষনের চেষ্টা চালিয়ে থাকে। আমরা আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার(IOM) সহযোগীতায় এ হত্যাকান্ডের পূর্ণ বিচার চাচ্ছি, ও নিহতদের পরিবারের নিকট যাথার্থ আর্থিক ক্ষতিপূরণ পৌঁছে দেবার দাবী করছি। আমাদের অনলাইন মানসিক স্বাস্থ্য সাহায্য সংস্থা “মনঘর” এর একটি অন্যতম শাখা “Migration Psychiatry” ; যারা নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ফ্রী কাউন্সিলিং করতে উদ্দ্যোগ নিয়েছে, নিহতদের বেশীর ভাগ হতভাগ্য ভাইদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ, কোন কিশোরগঞ্জ নিবাসী ভাই-বোন আমাদের এ উদ্যোগের কথা পারলে উক্ত পরিবারগুলোকে জানাবেন —: 01732823868/01552549672

Leave a Comment